স্টাফ রিপোর্টার: মনির হোসেন হাফেজ ছৈয়াল
হাইমচর (চাঁদপুর) | ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার
………………………….
হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে ফুলেল শুভেচ্ছা
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটি। আজ বিকেলে হাইমচর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নবগঠিত আংশিক কমিটি: সভাপতি মোঃ তানভীর আহমেদ গাজী, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া ফয়েজ আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডি.এম. রুবেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার।
১. মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক তার বক্তব্যে বলেন,
“আজকে যারা নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেয়েছো তোমাদেরকে অভিনন্দন। কিন্তু আমি আজকে বেশি কথা বলতে চাই তাদের উদ্দেশ্যে যারা এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলে, যারা দিনের পর দিন আমার পেছনে, জেলা নেতৃবৃন্দের পেছনে ঘুরেছো, কিন্তু আজকের এই ৫ জনের আংশিক কমিটিতে তোমাদের নাম আসেনি।
তোমরা মনে করো না তোমাদেরকে আমি চিনি না বা তোমাদের ত্যাগ আমি ভুলে গেছি। আমি তোমাদের প্রত্যেকের নাম জানি, তোমাদের বাড়ি কোথায়, তোমরা কোন ওয়ার্ডে কাজ করো সব খবর আমার কাছে আছে। শোনো, একটি উপজেলায় সভাপতি পদ একটাই, সাধারণ সম্পাদক পদ একটাই। সবাইকে তো আর একসাথে সভাপতি বানানো যাবে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজ যারা পদ পেয়েছে তারা সৌভাগ্যবান, কিন্তু যারা পাওনি তোমরাই হলে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
আমি তোমাদেরকে স্পষ্ট করে বলছি, তোমরা যদি অভিমান করে ঘরে বসে থাকো, ফেসবুকে উল্টাপাল্টা লেখালেখি করো, গ্রুপিং করো, তাহলে তোমাদের রাজনীতি এখানেই শেষ। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরে দলের সাথে থাকো, আমার সাথে থাকো, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তোমাদেরকে আমি যোগ্য জায়গায় মূল্যায়ন করবো। আর নতুন কমিটিকে বলছি, তোমরা বিজয় মিছিল না করে যারা পদ পায়নি তাদের বাড়িতে যাও, তাদেরকে বুকে টেনে নাও। তাদেরকে সাথে নিয়েই তোমাদেরকে কমিটি চালাতে হবে।”
২. হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারী তার বক্তব্যে বলেন,
“আমি নবগঠিত কমিটিকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন জানাই। দীর্ঘদিন পর হাইমচরে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কমিটি হয়েছে। তবে আজকে আমার মন কিছুটা ভারাক্রান্ত। কারণ আমি জানি, এই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আমার কাছে অন্তত ১৫ জন ছেলে এসেছিল, যারা প্রত্যেকেই যোগ্য। কিন্তু ৫ জনের আংশিক কমিটিতে সবাইকে তো আর জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়।
যারা আজ আসতে পারোনি, তোমরা আমার ছোট ভাই, তোমরা আমার সন্তানের মতো। তোমরা কেউ মনে করো না তোমরা বঞ্চিত হয়েছো। তোমরা হেরে যাওনি। এই দল তোমাদেরকে ভুলবে না। আমি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তোমাদেরকে কথা দিচ্ছি, তোমরা যদি শৃঙ্খলা মেনে চলো, কোনো বিশৃঙ্খলা না করো, তাহলে আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তোমাদেরকেই আমরা সামনের সারিতে নিয়ে আসবো। তোমরা হতাশ না হয়ে এমপি মহোদয়ের হাতকে শক্তিশালী করো। নতুন কমিটিকেও বলবো, তোমরা কোনো ভেদাভেদ করবে না, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
৩. হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন,
“আজকের দিনটি হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা একজন ত্যাগী সভাপতি তানভীর ও সাধারণ সম্পাদক রাসেলকে পেয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, এই দুটি পদের জন্য যারা প্রার্থী ছিল তারা প্রত্যেকেই বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিল। যারা আজকের এই আংশিক কমিটিতে আসতে পারোনি, তোমাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই – তোমরা মনোবল হারাবে না।
এটি মাত্র আংশিক কমিটি, আসল কমিটি হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রায় ১০১ সদস্য থাকবে। সেখানে তোমাদের প্রত্যেকের জায়গা হবে। তোমরা যদি আজ অভিমান করে দূরে সরে যাও, তাহলে তোমাদের ক্ষতি হবে, দলের ক্ষতি হবে। আমি তোমাদেরকে অনুরোধ করবো, তোমরা নতুন কমিটির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করো। তোমাদের মূল্যায়ন হবেই হবে। আর নতুন কমিটিকে আমি নির্দেশ দিচ্ছি, যারা প্রার্থী ছিল তাদেরকে তোমরা আপন ভাই হিসেবে বুকে টেনে নেবে। কোনো প্রতিহিংসা চলবে না।”
৪. চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক সোহাগ গাজী তার বক্তব্যে বলেন,
“চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটিকে আমি সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি জানি, এই কমিটিকে ঘিরে হাইমচরে অনেক আশা, অনেক প্রত্যাশা ছিল। অনেক যোগ্য, ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলে। তোমরা যারা আজকের এই ৫ জনের আংশিক কমিটিতে স্থান পাওনি, আমি তোমাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তোমরা কেউ বঞ্চিত নও, তোমরা কেউ ব্যর্থ নও।
একটি উপজেলায় আংশিক কমিটিতে সবার নাম দেওয়া যায় না, এটাই বাস্তবতা। আমি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তোমাদেরকে আশ্বস্ত করছি, তোমাদের প্রত্যেকের আমলনামা, তোমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা, তোমাদের ত্যাগ আমাদের কাছে লিপিবদ্ধ আছে। তোমরা যদি ধৈর্য ধরে, শৃঙ্খলা মেনে, এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে দলের সাথে থাকো, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি হাইমচরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তোমাদেরকে আমরা সম্মানজনক স্থানে মূল্যায়ন করবো। তোমরা কোনো বিভ্রান্তিতে, কোনো উস্কানিতে কান দিও না। তোমরা এমপি মহোদয়ের হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ থাকো। আর নবগঠিত কমিটির সভাপতি তানভীর ও সাধারণ সম্পাদক রাসেলকে বলবো, তোমরা কোনো গ্রুপিং করবে না, যারা প্রার্থী ছিল তাদেরকে সাথে নিয়েই তোমাদেরকে প্রতিটি কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিয়নে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হবে।”
৫. নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ তানভীর আহমেদ গাজী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া ফয়েজ আহমেদ তাদের যৌথ বক্তব্যে বলেন,
“আমাদের উপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রাখা হয়েছে তার জন্য আমরা প্রথমে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক সোহাগ গাজী ভাই সহ সকলের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আজ যারা আমাদের সাথে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলেন, যারা আমাদেরই সহযোদ্ধা, কিন্তু এই আংশিক কমিটিতে আসতে পারেননি, তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলতে চাই – তোমরা আমাদের প্রতিপক্ষ নও, তোমরা আমাদের ভাই, তোমরা আমাদের শক্তি। তোমাদেরকে ছাড়া আমরা কখনোই হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে পারবো না।
আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা কোনো প্রতিহিংসা, কোনো গ্রুপিং করবো না। আমরা আজ থেকেই তোমাদের বাড়িতে বাড়িতে যাব, তোমাদেরকে বুকে টেনে নেব। তোমাদের পরামর্শ নিয়েই আমরা কাজ করবো। তোমাদেরকে সাথে নিয়েই আমরা হাইমচরের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিয়নে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করবো এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ও এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের হাতকে শক্তিশালী করতে রাজপথে থাকবো।”
পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।।
…………………….
চাঁদপুর হাইমচর থেকে মোঃ মনির হোসেন হাফেজ ছৈয়ালের পাঠানোই প্রতিবেদন BD SOMOY 24.COM